আইওলাইটস (Iolites)
গানবাজনা

আইওলাইটস (উইন্ডি সাইড অব কেয়ার) : বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ড

October 31, 2018
ফেসবুকে শেয়ার করুন

১৯৬৩ সালের ২২ মার্চ ‘দ্য বিটল্‌স’ এর প্রথম স্টুডিও অ্যালবাম ‘প্লিজ প্লিজ মি’ রিলিজ হয়েছিলো, এর ঠিক চারদিন আগে ফজলে রব নামের সেন্ট গ্রেগরি স্কুলের এক বালকের মনে নতুন এক স্বপ্নের জন্ম নেয়। মুরুব্বীরা বলেন স্বপ্ন নাকি এমন কিছু যেটা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না। ফজলে রবও বোধহয় প্রথম প্রথম ঘুমাতে পারতেন না, আর তিনি যদি ঘুমিয়েই যেতেন তাহলে ইতিহাসে তার নাম লেখা হতো না। যাইহোক মূল কথায় ফিরে আসি, তার স্বপ্নটা ছিলো গিটার শেখার-দলবেঁধে গান করার। রবের মনেব এই চাওয়ার জন্ম হয়েছিলো ১৮ মার্চে তার স্কুলের সাংস্কৃতিক সন্ধায় ক্লাস এইট পড়ুয়া টেলফার জনসন নামের অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান এক ছাত্রের গিটারজাদুতে।  তখনকার সময়ে আমাদের এই উপমহাদেশে অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান ছোকরাদেরই গিটার বাজাতো-পপ,রক অ্যান্ড রোল গাইতো। অনবদ্য গিটার প্লেয়িংএ সেই টেলফার নামের ছেলেটি গাচ্ছিলেন বিটলসপূর্ব সময়ের ব্যান্ড মিউজিক শাসন করা ‘দি শ্যাডো’ এর জনপ্রিয় আর্টিস্ট ক্লিফ রিচার্ডের একটি জনপ্রিয় গান। ‘পিটার প্যান’ নামে খ্যাত ভারতের লখনউয়ে জন্ম নেওয়া এই ব্রিটিশ রকার এখনো জীবিত আছেন।

বাংলা ব্যান্ড মিউজিকের আঁতুড়ঘর সেন্ট গ্রেগরি স্কুল। ( ছবি- উইকিপিডিয়া)
বাংলা ব্যান্ড মিউজিকের আঁতুড়ঘর সেন্ট গ্রেগরি স্কুল। ( ছবি- উইকিপিডিয়া)

ফজলে রবের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করার প্রাথমিক পদক্ষেপ ছিলো ৩০০ টাকা দিয়ে কেনা একটা ইলেকট্রিক গিটার আর একটা এ্যাম্প। এবারে দলবেঁধে গাইবার পর্ব। কিন্তু তখন পর্যন্ত আমাদের এই বাংলাদেশ ভূখণ্ডে ‘ব্যান্ড’ নামে কিছু ছিলোনা কার্যত রবের এই ব্যান্ডযাত্রা শুরুর প্রেক্ষাপট ছিলো বেশ কঠিন। এরপরের বছর (১৯৬৪ সালে) সঙ্গে পেলেন গিটার বাজিয়ে রফিক মাযহার ইসলাম সাজু নামের আরেক স্কুলপড়ুয়া স্বপ্নবাজকে। আবার সুফি রশিদ নামে আরেকজন তাদের সঙ্গী হলো, তখনও কিন্তু তারা ব্যান্ড গঠন করতে পারেনি। এই তিনজন মিলে স্কুল-কলেজ-পাড়ামহল্লায় গান গাইতে শুরু করলেন। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সুফি সঙ্গ ত্যাগ করলে রফিক রিদম গিটার বাজানো শুরু করেন। ঢাকার বিখ্যাত নবাব বাড়ির ছেলে খাঁজা সাব্বির কাদের ড্রামসেট নিয়ে ঢুকে গেলেন এইচক্রে। এরপরেই তারা ব্যান্ড ফর্ম করেন, নাম রাখেন ‘আইওলাইটস (Iolites)’।

(সংযুক্তিঃ  কেউ কেউ বলে থাকেন  আইওলাইটসের আগেই চট্টগ্রামে ‘জিংগা শিল্পী গোষ্ঠী’ নামের একটি পারিবারিক ঘরাণার ব্যান্ড প্রতিষ্টিত হয়েছে। তবে যারা জিংগাকে প্রথম ব্যান্ড বলে থাকেন তারা কেউ স্বপক্ষে কোনো তথ্য-প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। বরং বাংলা ব্যান্ড সংগীতের সিনিয়র সব মিউজিশিয়ান থেকে শুরু করে বাংলাদেশে ব্যান্ড মিউজিক নিয়ে ১৯৯৮ সালে বের হওয়া একমাত্র প্রবন্ধের বই লতিফুল ইসলাম শিবলীর ‘বাংলাদেশে ব্যান্ড সঙ্গীত আন্দোলন’ সবাই আইওলাইটস-কেই বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ড হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সময় টিভিতে দেওয়া আইয়ুব বাচ্চু’র একটা সাক্ষাৎকারের ইউটিউব লিঙ্ক দিলাম।)

রফিক মাযহার ইসলাম সাজু ও রফি ওমর । ডেইলি স্টারের পক্ষে সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন এলিটা করিম
রফিক মাযহার ইসলাম সাজু ও রফি ওমর । ডেইলি স্টারের পক্ষে সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন এলিটা করিম । ছবি- ডেইলি স্টার (২০০৩)

তিনজন মিলে তো দল পাকালেন, কিন্তু পাড় ভোকালিস্ট কই! তখন রব-রা জুনিয়র এক ছেলেকে খুঁজে বের করলেন, নাম আলমগীর হক। এই আলমগীর হক-এর পরিচয়টা জানলে হয়তো অনেকেই চমকে উঠবেন। বাংলাদেশের ব্যান্ডমিউজিক তাদের পরিবারের কাছে একপ্রকারে ঋণী। আলমগীরের ছোটোভাই নয়ন মুন্সীকে বাংলাদেশের অন্যতম গিটারিস্ট বলা হয়, যিনি গুরু আজম খানের সাথে গিটার বাজাতেন। আরেক ভাই দস্তগীর ছিলেন স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ড ‘আন্ডারগ্রাউন্ড পিস লাভার’ এর ভোকালিস্ট ও ড্রামার। এদের বোনের নাম জর্জিনা হক, যিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী ড্রামার। এছাড়া আলমগীরের ৩ বোন ‘ত্রি হক সিস্টার্স’ নাম দিয়েও কিছুদিন গানবাজনা করেছেন। অনেকে মনে করছেন এতে চমকে যাবার মতো কি আছে! এবার শুনুন, এই সেই আলমগীর হক যিনি আশির দশক থেকে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় গায়কদের একজন, উর্দু পপস্টার, অনেকে যাকে প্রাচ্যের ‘এলভিস প্রিসলি’ বলে থাকে। কোক স্টুডিওতে তার গাওয়া বাংলা-উর্দুর মিশেলে ‘আমায় ভাসাইলি রে’  গানটা হয়তো অনেকেই শুনেছেন। তিনি একাধিকবার বাংলাদেশে গান গাইতে এসেছেন।

আলমগীর হক
আলমগীর হক

আলমগীর ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৬/৬৭ সাল পর্যন্ত এই ব্যান্ডে ছিলেন এরপর বড় গায়ক হবার স্বপ্ন নিয়ে করাচি চলে যান। করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে আমেরিকায় গিয়েও সেই স্বপ্নের টানে তিনি পুনরায় করাচি ফিরে যান। ‘আইওলাইটস’ এ থাকার সময় তিনি মাউথঅর্গানও বাজাতেন। আলমগীর ব্যান্ড ছেড়ে চলে যাবার পর ফাহমি বেজ গিটারিস্ট হিসেবে ব্যান্ডে ঢুকেছিলো আর ফাহমির সাথে করে এনেছিলো তার ভাই রফি ওমরকে। রফি ছিলেন ব্যান্ডের ম্যানেজার। সৈয়দ আশরাফুল হক নামে আরেকজন এসিসেন্ট ম্যানেজার জুটে গিয়েছিলো যিনি নব্বইয়ের দশক থেকেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনের মস্ত বড় এক ক্রিকেটকর্তা, ৭৯ সালে আইসিসি ট্রফিতে বাংলাদেশকে প্রথম ম্যাচ জেতানোর নায়ক তিনি।

১৯৬৫ সালের শুরুর দিক থেকেই ‘আইওলাইটস’ হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নিয়মিত পারফর্ম করতে শুরু করে। তখন প্রতিটা বড় বড় হোটেলেই গানবাজনার ব্যবস্থা ছিলো, যদিও স্বাভাবিকভাবে কোথাও বাংলা গান গাওয়া হতো না। বাংলাদেশের ব্যান্ড মিউজিকের শুরুর দিকে এই ‘হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল’ ছিলো সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক। ইন্টারকনের ছোট ডায়াসে গানবাজনা হতো, যেটা ‘চাম্বেলি রুম’ নামে পরিচিত ছিলো। এই চাম্বেলি রুম ব্যান্ড মিউজিক বিস্তারের ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রেখেছিলো। এই রুমকে ঘিরেই তখনকার তরুণেরা ব্যান্ড মিউজিকের নিয়মিত চর্চা শুরু করেছিলেন। ইন্টারকনে শো করার আগেই ‘আইওলাইটস’ শাহবাগ হোটেল (বর্তমান পিজি হসপিটাল) ও ঢাকা ক্লাবে শো করতো। ১৯৬৪ সালে বিটিভি’র ব্রডকাস্টিং শুরু হবার পরের বছরেই এরা টিভিতে ৩০ মিনিটের একটা পোগ্রামে ইস্ট্রুমেন্টাল পরিবেশন করেছিলো। এরপর হাদী নামে এক প্রযোজকের হাত ধরে এই ব্যান্ডের পারফরমেন্সের মাধ্যমেই এদেশের টিভি চ্যানেলে প্রথমবারের মত ‘ব্যান্ড শো’র সম্প্রচার শুরু হয়। ১৯৬৭ সালে বর্তমান ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টটিউটে বাংলাদেশের প্রথম টিকিটের বিনিময়ে কনসার্টের আয়োজন করেছিলো আইওলাইটস, কনসার্টের ব্যপ্তিকাল ছিলো ঘন্টা তিনেক। সেইবছরেই ব্যান্ডের নাম পাল্টে হয়েছিলো ‘উইন্ডি সাইড অব কেয়ার’, ব্যান্ডের নতুন এই নামের আইডিয়া পেয়েছিলো উইলিয়াম শেকসপিয়রের ‘টুয়েলফথ নাইট’ থেকে।

সেসময়ের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল
সেসময়ের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল

ষাটের দশকে ‘উইন্ডি সাইড অব কেয়ার (আইওলাইটস)’ ছিলো তরুণদের ক্রেজ। একবার ঢাকা ক্লাবে এরা সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত কয়েকটা বিরতিতে জ্যামিং করেছিলো, দর্শকেরা সারারাত তাদের ছেড়ে যায়নি। শ্রীমঙ্গলের মত প্রত্যন্ত অঞ্চলেও তারা তখন কনসার্ট করে বেড়িয়েছে, পরিবারের বকুনিও খেয়েছে। তারা এতটাই জনপ্রিয় ছিলো যে ৬৭ সাল পর্যন্ত তাদের ব্যাংক একাউন্টে ২৭০০০ টাকা জমা হয়েছিলো। হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রতি শো’তে তারা পেত ৭৫০ টাকা, প্রবেশমূল্য ছিলো টাকা। সেই সময়ের এই ৭৫০ টাকা এখন কত টাকা হয় হিসেব করে ফেলুন! ইন্টারকনে এরা লাস্ট পারফর্ম করেছিলো ১৯৬৯ সালে। তখন আইওলাইটস শুধুমাত্র ক্লিফ রিচার্ড, টম জনসন, দ্য বিটলস, দ্য এনিমেলস সহ সেসময়ের জনপ্রিয় গানগুলো বাজাতো। এইসব আর্টিস্ট/ব্যান্ডই ছিলো উইন্ডি সাইড অব কেয়ারের অনুপ্রেরণা। ১৯৬৮ সালে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সেই চাম্বেলি রুমে ‘সেরা ব্যান্ড’ নির্বাচনের জন্য প্রতিযোগীতা হয়েছিলো যেখানে উইন্ডি সাইড অব কেয়ার (আইওলাইটস) ছাড়াও  র‍্যাম্বলিং স্টোন, লাইটনিংস ও Insets Due  নামে মার্কিন মুল্লুকের এক ব্যান্ড সহ আরো কয়েকটি ব্যান্ড নাম লিখিয়েছিলো। প্রতিযোগীতায় সবাইকে হারিয়ে শ্রেষ্ঠ ব্যান্ডের তকমা জিতেছিলো ‘উইন্ডি সাইড অব কেয়ার(আইওলাইটস), আর ব্যান্ডের ড্রামার খাজা সাব্বির নির্বাচিত হয়েছিলো ‘শ্রেষ্ঠ মিউজিশিয়ান’। তখন ইএমআই রেকর্ড কোম্পানি তাদের অ্যালবাম বের করার প্রস্তাব দিয়েছিলো, উইন্ডি সাইড অব কেয়ার এই প্রস্তাব সানন্দে গ্রহন করেছিলো। ফর্টি ফাইভ আরপিএম-এ অ্যালবাম বের হয়েছিলো যেটা ছিলো বাংলাদেশের কোনো ব্যান্ডের প্রথম অ্যালবাম।একটানা ১৫ দিন ধরে করাচিতে অ্যাালবামের ৩টি ইস্ট্রুমেন্টালের রেকর্ড হয়েছিলো। সেই সময় করাচির বেশকয়েকটি পত্রিকা তাদের ইন্টার্ভিউ ছাপিয়েছিলো, টিভিতে একটা প্রোগ্রামও হয়েছিলো। তারা মূলত পশ্চিমা মিউজিকের সাথে আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশীয় মিউজিককে ব্লেন্ড করেছিলেন এই তিন ইস্ট্রুমেন্টাল ট্র্যাকে। সৌভাগ্যের ব্যাপার, কয়েকবছর আগে নাসের ইয়ামিন নামে একজন ঢাকার পুরাতন ক্যাসেট-রেকর্ডের দোকানগুলো থেকে এই মহামূল্যবান অ্যাালবামটি পেয়েছেন, ইউটিউবে আপলোডও করেছেন।

প্রতিষ্ঠার বছর চারেক পরেই ব্যান্ডে ভাঙ্গন দেখা দিলো। ড্রামার সাব্বির আর গিটারিস্ট রফিক ব্যান্ড ছেড়ে দিলেন, তাদের যন্ত্র কিনে নিলেন মিউজিশিয়ান-ঢাকাই সিনেমার একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক জাফর ইকবাল, তাদেরও একটা ব্যান্ড ছিলো। এরপর ৬৮ সালে খাজা সাব্বির ‘গোরি’ নামের একটা সিনেমায় নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সেটা ব্যবসায়িক সাফল্য না পাওয়ায় ৬৯ সালে তিনি স্থায়ীভাবে আমেরিকায় চলে যান, ৯১ সালে ক্যান্সারে মারা যান। আর রফিক যান হাওয়াইতে । তিনি বেঁচে আছেন কি না জানি না, ২০০৩ সালের একটা সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন হাওয়াইতে তার একটি ছোটো ব্যান্ড আছে। এরা দুজন ব্যান্ড ছেড়ে দিলে ফজলে রবের সাথে যোগ দেন ল্যারি, রবিন, সাকি। কিন্তু শেষরক্ষা আর হলোনা, মুক্তিযুদ্ধের পর এরা তিনজন ‘আগলি ফেসেস’ নামে নতুন ব্যান্ড বানালেন। ফজলে রব কিছুতেই কিছু করতে না পেরে ৭৬ সালে সব ছেড়েছুড়ে  তিনি আমেরিকায় চলে গেলেন। তখন এগিয়ে এলেন ওমর খালেদ রুমী, সাথে পেলেন হ্যাপী আখন্দ, ইদুকে। ভাঙ্গাচোরা অবস্থায় কয়েকবছর গানবাজনা চালিয়ে যাবার পর ইদু চলে গেলেন আমেরিকায়। এরপর আর মাথা তুলতে পারেনি ‘উইন্ডি সাইড অব কেয়ার’। এভাবেই পুরোপুরিভাবে থেমে গেলো বাংলাদেশের প্রথম ব্যান্ডের পথচলা।

 

তথ্যসূত্রঃ

# ‘বাংলাদেশে ব্যান্ড সঙ্গীত আন্দোলন’ – লতিফুল ইসলাম শিবলী ( শব্দশৈলী প্রকাশনী – ২০১৮ )

# ‘ডেইলি স্টার’ দৈনিকে রফিক মাযহার ইসলাম সাজু ও রফি ওমর এর সাক্ষাৎকার (২০০৩)

# বিভিন্ন স্যোশাল মিডিয়ায় জর্জিনা হকের করা কমেন্ট

# আলমগীর হকের পরিবারের সদস্য নুরুল সাইমন (ইউটিউব থেকে)

Facebook Comments
ফেসবুকে শেয়ার করুন

মন্তব্য করুনঃ